ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার এবং নিজের অনলাইন বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে যেনে নিন সে সব তথ্যগুলো।

বতর্মানে বিশ্বে আপনার পণ্য সম্পর্কে মানুষকে জানাতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ভূমিকা আবশ্যক। মানুষ ইন্টারনেটে আরো বেশি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, বিশেষত মোবাইল ডিভাইসগুলিতে। তারা পণ্যগুলি কেনার জন্য অনলাইনে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে, কেনার আগে পণ্যের মান পরীক্ষা করে, অন্য পণ্যের সাথে তুলনা করে এবং এইসব কিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই করছে। সুতরাং, আপনার অনলাইন প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে আপনার পণ্যকে প্রচার করতে হবে ।  আমি  এখানে সব বিষয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

অনলাইনে বিজ্ঞাপন,  যা কিনা ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন হিসাবেও পরিচিত,  মূলত ভোক্তাদের বা দর্শকদের কাছে পণ্যের তথ্য পৌছে দিচ্ছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য অনেকগুলি নতুন এবং উদীয়মান ধরন রয়েছে। ই-মেইল মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, আরো সাধারণ ধরনের ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন এবং মোবাইল বিজ্ঞাপন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এর  অংশ।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার

অনলাইন বিজ্ঞাপন সুবিধা:

  • দীর্ঘমেয়াদী কৌশল
  • ব্যাপক কভারেজ
  • লক্ষ্যবস্তু শ্রোতাদের
  • সাশ্রয়ী মূল্য
  • ট্র্যাক এবং পরিমাপ করা যায় সহজে
  • তথ্যপূর্ণ
  • নমনীয় পেমেন্ট বিকল্প
  • বিনিয়োগের উপর বেশী লাভ
  •  শ্রোতাদের সাথে সহজেই পৌছানো যায়
  • ভাল ব্র্যান্ডিং
  • রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার

 

অনলাইন বিজ্ঞাপনের কিছু প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা:

বিজ্ঞাপনদাতা: বিজ্ঞাপনদাতা এমন একজন যিনি  তার পণ্যের প্রচারের জন্য টাকা দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞাপনদাতা বিজ্ঞাপিত পণ্য বিক্রি করে, বিক্রয়ে থেকে অর্জির মুনাফা দিয়ে তার লাভ  পরিমাপ করে ।

উদাহরণ – দেশীয় কোম্পানি – প্রান, স্কয়ার, রবি,
উদাহরণ – বিদেশী কোম্পানি: ল’অরিয়াল, কিম্বার্লি-ক্লার্ক, ইউনিলিভার, পি অ্যান্ড জি।

প্রকাশক : প্রকাশক এমন একজন, যিনি সাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ পান। প্রকাশক পণ্যের বিজ্ঞাপন নিজের ওয়েবসাইটে বা অন্যসকল মাধ্যমে প্রকাশ করেন এবংভিজিটরদের  বিজ্ঞাপনের জন্য দেয়া বিজ্ঞাপন দাতার  ওয়েবসাইটের লিংকে (ক্লিক থ্রো লিনক বলে) যেতে উৎসাহী করেন যেন তারা ক্রয় করেন বা পণ্যের উপর আরও বিস্তারিত পড়েন। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল বোর্ড, গেমিং কনসোল হল প্রকাশকের অনলাইন সম্পত্তি।

উদাহরণ – দেশীয় কোম্পানি – প্রথম আলোর, এন-টিভি
উদাহরণ – বিদেশী কোম্পানি: ব্লুমবার্গ, নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি।

এজেন্সি: একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা বা বিজ্ঞাপন সংস্থা পরিষেবা ভিত্তিক ব্যবসা যা বিজ্ঞাপন ক্রেতার জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি, পরিকল্পনা এবং পরিচালনার জন্য কাজ করে থাকেন। এটি বিজ্ঞাপনগুলি তৈরি করে, পরিকল্পনা করে, কখন এবং কখন এটি বিতরণ করা উচিত এবং ক্লায়েন্টের কাছে এটি হস্তান্তর করে।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার

 

অ্যাড নেটওয়ার্ক: একটি অ্যাড নেটওয়ার্ক একটি এজেন্সি বা প্ল্যাটফর্ম যা বিজ্ঞাপনদাতা এবং প্রকাশক উভইয়ের মধ্যে যোগাযোগ ঘটায়। বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কটি প্রচারাভিযানে টার্গেটিং, অপ্টিমাইজেশন এবং রিপোর্টিং এর কাজ ও করে থাকে।

অ্যাড এক্সচেঞ্জ: একটি বিজ্ঞাপন বিনিময়ের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস যা বিজ্ঞাপনদাতাদের এবং প্রকাশকদের বিজ্ঞাপন স্থান কিনতে ও বিক্রি করতে দেয়, রিয়েল-টাইম নিলামের মাধ্যমে। 

সিটিআর – ক্লিক-এর মাধ্যম হার: ক্লিক থ্রো রেট বলতে বুঝায়, কতজন মানুষ বিজ্ঞাপনটি দেখল এবং কতজন লিংকে ক্লিক করে বিজ্ঞাপন দাতার ওয়েবসাইটে ঢুকল তার একটি হিসাব যা শতকরায় হিসাব করা হয়। এই ব্যপারে আরো জানতে হলে, দেখুন – Click Through Rate এর গ্রহনযোগ্য মান কত হতে পারে

সিপিএ – একটা পন্য বিক্রি করার জন্যে কতটাকা খরচ করতে হয়েছে বা CPA – Cost per Acquisition: এটা হচ্ছে একটা হিসাবের মডেল যেখানে কোম্পানিগুলি প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদান এবং তার পন্যের বিক্রয় প্রতি আয়ের টাকা তুলনা করে লাভ ক্ষতির হসাব করে। এটি কিছুদিনের জন্য হলেও এটি ২০১৩ সালের শেষের দিকে এবং শুরুতে একটি সাধারণ মূল্যমান মডেল হিসেবে অনেক বেশি ব্যাবহৃত তৈরি হয়েছিল।

সিপিসি – প্রতি ক্লিকের মূল্যঃ এটি আরে্কটি মডেল যেখানে প্রতিটি ক্লিকের জন্য প্রতিটি ক্লিকের জন্য শুধু টাকা দিতে হবে। একটি বিজ্ঞাপনের জন্য ১০০০০ ইম্প্রেশন খরচ হতে পারে কিন্তু বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক হবে হয়ত ১০/১৫ টা। বিজ্ঞাপনদাতা কে শুধু ১০/১৫ টা ক্লিকের জন্য টাকা দিতে হবে। এক্ষেত্রে সিপিসি এর মূল্য ইম্প্রেশন এর থেকে বেশি হয়।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার
ইমপ্রেশন: ইম্প্রেশন হল একটি বিজ্ঞাপন যতবার দেখা হয় তার সংখ্যা। ইমপ্রেশন কীভাবে কাজ করে তার উদাহরণ: ১ জন দর্শক ৫ টি পৃষ্ঠা দেখতে পারে যা ৫ টি ইমপ্রেশন তৈরি করবে। ২ জন দর্শক ৫ টি পৃষ্ঠা দেখতে পারে যা ১০ টি ইমপ্রেশন তৈরি করবে।

কেম্পেইন: সময়ভেদে, দিনভেদে, বিজ্ঞাপনের ধরনভেদে, যায়গাভেদে বিজ্ঞাপনদাতা আলাদা আলদা বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। সেইসব আলাদা আলদা বিজ্ঞাপন যখন এ্কটি গ্রুপ করে রাখা হয়, তখন তাকে কেম্পেইন বলে।

প্লেসমেন্ট:  যেখানে বিজ্ঞাপনগুলি প্রদর্শিত হতে পারে। আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদা আলদা সে্টিংসের প্রয়োজন হয়। আর এই সব আলাদা সে্টিংসকে প্লেসমেন্ট বলে।  কয়েকটা সেটিংস মিলে একটা কেম্পেইন হয়।

 

ল্যান্ডিং পেজ: এটি একটি কোম্পানীর ওয়েবসাইটের পেজ যা একটি সাইটের হোমপেজ হিসেবে কাজ করে । অথবা, এমন একটি পেজ যা আলাদা করে বানানো হয় এবং বিজ্ঞাপনের ক্লিক থ্রো পেজ হিসেবে কাজ করে যা কিনা শুধু মাত্র ওই বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য বিজ্ঞাপন দাতা পর্যবেক্ষন করে থাকেন।

ব্যানার: একটি ওয়েব ব্যানার বা ব্যানার বিজ্ঞাপন একটি বিজ্ঞাপন সার্ভার দ্বারা নিয়ন্ত্রন করে থাকে যা কিনা বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে দেখা যায় এবং খুব দ্রুতই বিজ্ঞাপনগুলো চলে যায়।

• ছোট স্কয়ার – 200 x 200
• ব্যানার – 468 x 60
• লিডারবোর্ড – 7২8 x 90
• মাঝারি আয়তক্ষেত্র – 300 x 250
• বড় আয়তক্ষেত্র – 336 x 280
• স্কাইস্ক্রাপার – 120 x 600
• ওয়াইড স্কাইস্ক্রাপার – 160 x 600
• অর্ধ-পাতার বিজ্ঞাপন – 300 x 60
• বড় লিডারবোর্ড – 970 x 90

 

 

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার

 

ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাপিং: একজন কত বার বিজ্ঞাপনটি দেখতে পারবে তাও নির্ধারন করে দেয়া যায়।

ফিকোয়েন্সি ক্যাপিং দিনে ১ দেয়া মানে, একজন লোক ওই বিজ্ঞাপনটি কেবল ২৪ ঘন্টায় ১ বারই দেখতে পাবে ।

টার্গেটিং: বিজ্ঞাপনটি কোন প্রকার মানুষের কাছে পৌছাবে তা নির্ধারন করে দেয়ার নাম হচ্ছে টার্গেটিং।

বিভিন্ন ধরণের টার্গেটিং:
• কীওয়ার্ড টার্গেটিং
• অবস্থান এবং ভাষা টার্গেটিং
• ডিভাইস টার্গেটিং
• শ্রোতা লক্ষ্যবস্তু
• প্লেসমেন্ট টার্গেটিং
• প্রাসঙ্গিক টার্গেটিং
• সময় ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা
• জিওগ্রাফিক টাস্কিং
• ক্রিয়েটিভ টার্গেটিং

অ্যাড-ট্যাগ: অ্যাড-ট্যাগ এইচটিএমএল বা জাভাস্ক্রিপ্ট কোডের একটি অংশ যা একটি অ্যাড সার্ভারের মাধ্যমে ওয়েব পেজের সোর্স কোডে সন্নিবেশ করা হয়।

অ্যাড-ট্যাগ একটি ডিজিটাল স্থানধারক যার মধ্যে বিষয়বস্তু শেষ পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে।

রিটার্গেটিং: পুনঃপ্রচেষ্টা একটি “কুকি ভিত্তিক” প্রযুক্তি। এটা সহজেই একটি জাভাস্ক্রিপ্ট কোড ব্যবহার করে এবংগোপনে ভিজিটরদের “অনুসরণ” করে ।

রিটার্গেটিং অনলাইন-বিজ্ঞাপন একটি ধরন, যা আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট থেকে চলে যাওয়ার পরে অন্য সকল ওয়েবসাইটে গেলেও অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন দেখাবে।

RTB: রিয়েল-টাইম-বিডিংটি হল রিয়েল-টাইম নিলামের মাধ্যমে অনলাইন বিজ্ঞাপন ক্রয়-বিক্রিয়া বোঝায়। রিয়েল-টাইমবিডিং হল একটা মাধ্যম যেখানে সবগুলো অ্যাড নেটওয়ার্ক যুক্ত থাকে।

 

Summary
Article Name
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার
Description
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কিছু মৌলিক সংজ্ঞা যা নিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য জানা দরকার এবং নিজের অনলাইন বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে যেনে নিন সে সব তথ্যগুলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।